গাজীপুরের মাইম শিল্পের অন্যতম পুরোধা শহীদুল হাসান শামীম

এ মামুন মুন্না :
বিশ্ব মূকাভিনয় নিয়ে বলতে গেলে “মার্সেল মার্সো” কে নিয়ে না বললেই নয় তেমনি ভাবে গাজীপুরে মূকাভিনয় নিয়ে বলতে গেলে যে নামটি আসে তা হল “মো: শহীদুল হাসান শামীম”, অর্থ সম্পাদক বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশান এবং সভাপতি মুক্তমঞ্চ নির্বাক দল । গাজীপুরের মূকাভিনয় শিল্পের অন্যতম পুরোধা শহীদুল হাসান শামীম । গাজীপুরে মূকাভিনয় শিল্পে তার অবদান অনশ্বীকার্য তাছাড়া বাংলাদেশের মূকাভিনয় চর্চা ও মূকাভিনয় প্রসারের জন্য ২০০১ সাল থেকে নিরলস চেষ্ঠা করেয যাচ্ছে যার কারনে বাংলাদেশের মূকাভিনয়ের ইতিহাসে তার নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। ২০০০ সালের ২৭ মার্চ মুক্তমঞ্চ নাট্যদল ও মুক্তমঞ্চ নির্বাক দল প্রতিষ্ঠা করেন। এরই মাঝে ১৯৯৯-২০০৪ কাজ করেন নাট্যচক্র,পড়ালেখা করেন থিয়েটার স্কুলে উত্তীর্ণ হন ফাষ্ট ক্লাস পেয়ে। ১৯৯৯ সালে নাট্যজন নাদেজদা ফারজানা মৌসুমি এর এক মূকাভিনয় কর্মশালার মাধ্যমে মূকাভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।২০০১ সালে কোলকাতার মধুসুদন মঞ্চে মূকাভিনয় প্রর্দশন করে অর্জনকৃত সুনাম তাকে আরও অনুপ্রানিত করে । কিন্তু এর পর তার প্রশিক্ষক নাট্যজন নাদেজদা মৌসুমি পি. এইচ ডি করতে ভারত চলে যাওয়ায় তিনি মূকাভিনয় করার জন্য ব্যকুল হয়ে খুঁজতে থাকেন কার কাছে মূকাভিনয় শিক্ষা গ্রহন করা যায়। ভাগ্যক্রমে থিয়েটার স্কুলে জিল্লুর রহমান জন স্যারের দেখা পান। তার কাছে শিখে নেন মূকাভিনয়ের খুটিনাটি বিষয়। এই সময়ে নাট্যজন জাহিদ রিপন শুরু করেন ‘সৌভিক মূকাভিনয় স্কুল’। এখান থেকে ২০০৫সালে শিক্ষক জাহিদ রিপন পরিচালিত মূকাভিনয় কর্মশালার মাধ্যমে মূকাভিনয় বিষয়ে আরো দক্ষতা অর্জন করেন ।মূকাভিনয় কর্মশালার মাধ্যমে স্বারনিধ্য পান আমেরিকার বিখ্যাত মূকাভিনেতা কাজী মশহুরুল হুদার । ২০০৯সালে হঠাৎ একদিন নাট্যজন জাহিদ রিপন ফোন করে “চট্টগ্রাম মূকাভিনয় উৎসবের” খবর দেন। ছুটে যান চট্টগ্রাম । সেখানের নাট্যজন রিজোয়ান রাজনকে পেয়ে শুরু হয় নতুন উদ্দমে পথ চলা। ২০১০ সালে পেন্টোমাইম মুভমেন্ট এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মূকাভিনয় কর্মী সম্মেলন ও ২০১১ সালে হয় বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশান। তার এই পথ চলায় সঙ্গী ছিলেন তিনি ।নিজ জেলা এবংবাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চালে মূকাভিনয় প্রর্দশন করেন তিনি । ২০১২ সালে ভারতের বিক্ষাত মূকাভিনেতা ও মূকাভিনয় শিক্ষক পদ্মশ্রী পদক প্রাপ্ত মূকাভিনয়জন নিরন্জন ঘোষ স্বামীর খুব কাছে থেকে মূকাভিনয় শিক্ষা গ্রহন করেন তিনি । দীর্ঘদিন একক মূকাভিনয় করার পর অবশেষে ২০০৬ সালে কয়েক জন কে নিয়ে প্রানবন্ত করেন ‘মুক্তমঞ্চ নির্বাক দল’।বর্তমানে তার ১৫ জন মূকাভিনয় শিল্পী আছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন মূকাভিনয় ব্যপক প্রচার ও প্রসার করার।তাই সাস্প্রতি সে বেশ ক’টি মূকাভিনয থিয়েটাকেও প্রান চঞ্চল করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন মূকাভিনয় না রেখে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মূকাভিনয়ের শিক্ষা ও বিস্তারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ।বাংলাদেশে কিংবদন্তী নির্বাক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনকে নিয়ে সর্বপ্রথম মূকাভিনয় উৎসবের আয়োজন করেন তিনি। বিভিন্ন দলকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং ইতিহাস সংরক্ষণে তার ভূমিকা প্রশংসনীয় । নাট্যচর্চা ছড়িয়ে দিতে “কবি নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয়ে” নাট্যকলা বিভাগ চালু করায় তার অবদান অনেক।
মূকাভিনয় নিয়ে স্বপ্ন দেখেন একটি মূকাভিনয় স্কুল প্রতিষ্ঠা করার। তার এই স্বাপ্ন পূরণের জন্য আসুন আমরা সবাই তার পাশে দাড়াই ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। ২৮শে সেপ্টেম্বর তার জন্মদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা এবং ভালবাসা রইল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*